
মো: সানি মিয়া, উপজেলা প্রতিনিধি ।
হুমকির পর ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধামকি পাওয়ার পর তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত রাত আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটের দিকে একদল দুর্বৃত্ত বাড়িতে হামলা চালায় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম মিয়া দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে হুমকি পেতে শুরু করেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার অভাব এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তারা বিভিন্ন সময় নিজ বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন এবং আত্মগোপনে থাকতে হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ক্রমাগত হুমকি পাওয়ার কারণে তারা ১৫ মে ২০২৬ তারিখে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮০) করেন। তবে জিডি করার পরও হুমকি বন্ধ হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
এর মধ্যেই গত রাত আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটের দিকে একদল দুর্বৃত্ত বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলায় ইব্রাহিম মিয়ার বাবা, মা ও ছোট বোন আহত হন বলে জানা গেছে। পর্বরতীতে উনারা স্থানীয় ফার্মেসিতে চিকিৎসা নেন।
এছাড়া ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পরিবার দাবি করেছে।
ইব্রাহিম মিয়ার বাবা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক নেই এবং তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, “আমরা তার বর্তমান অবস্থান বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানি না। দীর্ঘদিন ধরে সে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তারপরও বিভিন্ন সময় আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে।”
পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, ইব্রাহিম মিয়ার ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অতীতের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার কোনো কাজের জন্য পরিবারের নিরীহ সদস্যদের দায়ী করা যায় না। তারা দাবি করেন, যদি ইব্রাহিম মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনগত বিষয় থেকে থাকে, তবে তা আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়। তার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রতিশোধমূলক আচরণ সম্পূর্ণ অন্যায় এবং মানবাধিকারবিরোধী।
হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ইব্রাহিম মিয়ার বাবা জানান, ঘটনার সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত আতঙ্কজনক ছিল এবং তিনি কাউকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হুমকি পাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও শেষ পর্যন্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তাদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।